সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

সন্তানের ভবিষ্যৎ আপনিই নষ্ট করছেন না তো?

রৌদ্রছায়া প্রকাশ ডেস্ক / ১১৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন
গদ্য
আহমেদ রউফ

আহমেদ রউফ
সন্তানের ভবিষ্যৎ আপনিই নষ্ট করছেন না তো?


গ্রামের এক ছেলে পড়াশোনা শেষ করে একটি সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সে মনস্থির করলো তার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হাসেম স্যারের সাথে একদিন দেখা করবে। তাই দুই বন্ধুকে নিয়ে স্যারের বাড়ির দিকে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে এক বন্ধুকে বলল—


জন্মের পর থেকে সর্বপ্রথম আমরা আমাদের বাবা মায়ের কাছ থেকে শিখি— কথা বলি। মায়ের ভাষায় আমরা কথা বলা শিখি। শিখি হাঁটতে-চলতে-উড়তে! তারপর একদিন পরিচয় হয় আমাদের শিক্ষাগুরুর সাথে। যে আমাদের পাঠদান করান এবং শেখান আদব-কায়দা এবং জীবনের অন্যসব অত্যবশ্যকীয় জ্ঞান। তাই বাবা মায়ের পরের স্থানটিই হলো শিক্ষকদের। শিক্ষাগুরুকে তাই বাবা মায়ের মত করেই সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে হবে। ঘরে বাবা মা’ও এই শিক্ষা দিয়ে থাকেন আমাদের। তবে, আজ দেখছি তার উল্টো শিক্ষাদানকারী বাবা-মা। কেন যেন মাথা নিচু হয়ে আসছে ধারাবাহিক পরিক্রমায় এসব দেখে দেখে।

আসুন দুটি অণুগল্প শুনে আসি!…

গল্প/এক

গ্রামের এক ছেলে পড়াশোনা শেষ করে একটি সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সে মনস্থির করলো তার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হাসেম স্যারের সাথে একদিন দেখা করবে। তাই দুই বন্ধুকে নিয়ে স্যারের বাড়ির দিকে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে এক বন্ধুকে বলল—

—বন্ধু একটি সিপ্টি গাছের চিকন ডাল ভাঙতো…
বন্ধু বলল— কেন?
প্রথম বন্ধুটি বলল— বললাম তো ভাঙ…
—ঠিক আছে।

সিপ্টি গাছের ডাল হাতে নিয়ে বন্ধুরা স্যারের বাড়ি গিয়ে উঠলো এবং সামনেই স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে গেল। স্যারকে সবাই সালাম দিলেন এবং বললেন—
—স্যার কেমন আছেন?
স্যার বললেন—ভালো। তা তোমরা হঠাৎ করে আমার বাড়িতে!
ছেলেটা বলল— স্যার বলবো তবে, আপনি এই বেত দিয়ে আমাকে একটা বারি দেন, তারপর বলবো।
স্যার বলল—কেন?
—দেন না স্যার! বলছি…

স্যার বেতটা নিলো কিন্তু বারি দিতে পারছে না। স্যার ভাবলো, তারা তো এখন কোনো ভুল করছে না! তাই বেত হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটি হাত বাড়িয়ে দিল— স্যার হাসছে, বন্ধুরাও হাসছে। স্যার আস্তে করে বেতটি ছেলেটির হাতে স্পর্শ করে। আর তাতেই সবাই আনন্দে ফেটে পড়ে। ছেলেটি স্যারের পা ধরে সালাম করে।

তো, এই হলো আমাদের বেলার ছাত্র-শিক্ষক।

গল্প/দুই

স্কুলের সামনে একটি ছেলে একটি মেয়ের সাথে ইভটিজিং করে। এটা স্কুলের এক স্যারের চোখে পড়ায় ছেলেটিকে আস্তমত বেত দিয়ে আঘাত করলো এবং ছেলেটি চলে গেল। পরের দিন ছেলেটির বাবা ছেলেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার দেন এবং বলেন— এত বড় সাহস, কে আমার ছেলেকে মেরেছে? তাকে ডাকুন।
প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষককে ডাকেন। শিক্ষক এসে জানান— আমরা আসলে শিক্ষক হিসেবে ব্যর্থ। শিক্ষক হিসেবে আমরা তাদের শিষ্ঠাচার শিখাতে পারি নি। তাই আমিও শিক্ষক হিসেবে ব্যর্থ। আপনারা আমাকে মাফ করবেন। আপনারা বলার আগেই বলছি— আমি আর শিক্ষকতা করবো না। আপনি কী জানেন, এই ছেলে কি করেছে, এবং কেন আমি আমার ছাত্রকে শাষণ করেছি। কি অপরাধ ছিল তাঁর? তাহলে শোনেন— ও রাস্তায় একটি মেয়েকে ইভটিজিং করেছে। আমার ছাত্রকে আমি শিক্ষা দিতে পারি নি। তাই আমি চলে যাচ্ছি। …হয়তো এই স্কুলে আর আসা হবে না। তাই আমরা যারা ছাত্র-ছাত্রীদের গার্ডিয়ান আছি তারা যেন নিজেদের ছেলে-মেয়ের স্কুল শিক্ষক বা কলেজ শিক্ষক শাষণ করেছে বলে— সে ব্যাপারে কিছু না জেনে না শুনে এভাবে স্কুলে গিয়ে শিক্ষককে অপমান না করি।

একটু থেমে ওই শিক্ষক আবার বলেন— এতে করে আপনার ছেলে আপনার মেয়েই ভুল পথে হাঁটবে, একদিন…

পরিশেষে বলব, সঠিক অভিভাবক হোন। নিজের সন্তানকে সঠিকভাবে পরিচালিত করুন। সন্তানের নৈতিক সুরক্ষায় প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। কেননা, আপনার কাছ থেকেই সে শিখছে প্রতিনিয়ত।

 

লেখক : কথাসাহিত্যিক, সম্পাদক ও প্রকাশক

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...